বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১০

নূপুরের চোখের জল আর আরিফের ভাগ্য


১. সূচনা
নারায়ানগঞ্জে যৌথ পরিবার দুই ভাই একসাথে থাকত। ছোট ভাই কাউসার আহমেদ এর দুই ছেলে মেয়ে আর বড় ভাই আহসান হাবিব এর তিন ছেলে মেয়ে।কাউসার আহমেদের বড় ছেলে আরিফ  আর আহসান হাবিবের মেঝ মেয়ে নূপুর পিঠে পিঠে মানুষ হয়েছে। নূপুর ছিল ঠান্ডা প্রকৃতির আর আরিফ ছিল দুষ্টু। সারা দিন এই দুজন ঘরটা গরম করে রাখত। নূপুরের নালিশ এর জালায় নূপুরের মা আর আরিফের মার মধ্যে প্রায় ঝগড়া লাগত। এমনি দুজনের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি ভাল। বাবারা এসব নিয়ে মাথা ঘামাতো না। দুজনের মা না পেরে দুজনকেই ঘরে আটকিয়ে রাখত দরজা বন্ধ করে। তখন আরিফ তার মাকে বলত-
মা আমি আর নুপূরকে জ্বালাতন করবনা। ওইদিকে নূপুর তার মাকে বলত-
মা আমি আর তোমাকে নালিশ করবনা।
দুজনের কান্নাকাটি দেখে মায়ের মায়া লাগে তাই আবার দুজনকে ছেড়ে দেয়। সবসময় এমনই করত দুজনই।


আস্তে আস্তে তারা বড় হতে লাগল । বাবারা একই সাথে ব্যবসা করত। কিন্তু যখন আরিফ নূপুর ৭ম শ্রেণীতে পড়ে তখন ব্যবসার মধ্যে ভুল বোঝাবোঝির জন্য ফাটল ধরে। তখন থেকে দুই ভাই আলাদা হয়ে যায়। ব্যবসা আলাদা হয় বাড়ীর মাঝে পড়ে ইটের দেয়াল। তবে দেয়ালের মাঝে একটা ছোটখাট একটা টিনের দরজা আছে। আগে বাড়িতে একটাই ঢোকার গেট ছিল এখন দুটো গেট।  আলাদা হয়ে যায় দুই ভাই কিন্তু তাদের বউরা এবং আরিফ আর নূপুর আলাদা হয়নি। দুই ভাই সামনাসামনি দেখা হলে কেও কারো সাথে কথা কলে না।  

দশম শ্রেণীতে যখন আরিফ উঠল তখন আরিফ বুঝতে পারল তার মধ্যে একটা পরিবর্তন হচ্ছে। সে এখন সারাদিন নূপুরকে নিয়ে চিন্তা করে। নূপুরকে সে আগের মত জ্বালায় না। নূপুরের মধ্যে এই পরিবর্তন হয়নি আরিফ খেয়াল করে। মাট্রিক পরিক্ষার পর বুঝতে পারল এটা ভালবাসা ছাড়া কিছু না। কিন্তু কখনো বলতে পারিনি কারণ আরিফ নুপূরের থেকে আট মাসের ছোট্ এই দিকে আরিফের বাবা ঠিক করেছে আরিফকে ঢাকায় পাঠাবে। আরিফ ঢাকায় চলে আসল। আসার সময় নূপুর কেদেছিল আর বলেছিল চিঠি লিখিস। তখন আরিফের চোখও ভিজে আসে।

আরিফকে তার বাবা মোবিইল কিনে দিয়েছিল। কিন্তু নুপূরের কাছে কোন মোবাইল নাই। ঢাকায় এসে আরিফ নটোরডেম এ চান্স পায়। এবং সাথে চান্স পায় আরিফের দুশমন রানাও পায়, ওরই সথে পড়ত। দুজনকে দুজনের বাবার জন্য একই হোস্টেলে থাকতে হত। ঢাকায় এসে নুপূরকে  পর পর তিন মাস টিনটা চিঠি লিখেছিল। তার উত্তর্‌ ও পেয়েছিল কিন্তু এর পর থেকে পরবর্তি তিনটা চিঠির উত্তর পায়না। অনেক চিন্তিত ছিল। কিন্তু কেওকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারলনা কি হয়েছে। এদিকে হোস্টেলের সবারই ফোনফ্রেন্ড আছে। কারো গার্লফ্রেন্ড কারো টাইমপাস ইত্যাদি ইত্যাদি। আরিফের এক বন্ধু এক মেয়ে নাটাসার নাম্বর দেয়। তার বন্ধুও জানেনা নাটাসা কেমন? আন্দাজের উপর আরিফকে বলেছে মেয়েটা ভাল। আরিফ কথা বলা শুরু করেছে নাটাসার সাথে। আর এই নাতাসাই আরিফকে নূপুর থেকে দূরে সরিয়ে নিল। আস্তে আস্তে নূপুরের প্রতি ঝোক কমে । একমাসে তিনশত টাকার হিসেব দিতে পারিনি তাই বাবার কাছে অনেক বকা খেতে হল নাটাশাকে ফোন করার কারণে।  


চলবে....

সন্ধান করতে